মোঃ তাজুল ইসলাম সরদার
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আস সালামু আলাইকুম, আমি মোঃ তাজুল ইসলাম সরদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আয়েশা গার্লস সুপার হোস্টেল, মধ্য বৃন্দাবন পাড়া, বগুড়া।
আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক গন ও আমার প্রাণ প্রিয় ছাত্রী গন। আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার কিছু কথা তুলে ধরতে চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন চাকুরি জীবি মানুষ। আমার চাকরির কারণে পরিবার সহ রাজশাহীতে বসবাস করি। আমার শেষা ছাত্রজীবন কেটেছে সরকারি আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। সে সময় আমি থাকতাম জহুরুল নগর একটি ছাত্রাবাসে। সেখানে থাকার সময় যে সমস্যা গুলো সহ্য করেছি তা মনে হলে এখনো কষ্ট পাই।
ছাত্রজীবন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল, আল্লাহ্ যদি কখনো তৌফিক দান করেন তাহলে আমি একটি ছাত্রাবাস করবো। আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহর রহমতে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
আমি যখন এই ছাত্রীনিবাস নির্মানের পরিকল্পনা হাতে নেই তখন থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল ব্যতিক্রম কিছু করার। আমার নিজের চিন্তা ভাবনা ছিল যে,মানুষের জীবনের প্রধান চাহিদা গুলোর মধ্যে বাসস্থান ও খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি চাহিদা।
আমি যদি বাসস্থানের কথা বলি তাহলে প্রথমেই বলতে হয় বাথরুমের কথা,আমি অনেক ছাত্রীনিবাস দেখেছি যেখানে আট জন, বার জন অথবা ষোল জন ছাত্রী একটি বাথরুম ব্যবহার করে যা আমার নিকট অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা প্রত্যেক রুমের সাথে এটাস্ট বাথ রুম থাকবে। আবার মানসিক ফ্রেশনেছের জন্য পর্যাপ্ত আলো বাতাসের প্রয়োজন যার জন্য প্রত্যেক রুমের সাথে বেলকুনির ব্যবস্থা করলাম। এরপর মনে হল একজন মেয়ে যখন আসবে তখন তাকে রুম সাজানোর জন্য অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়, তাই পুরো রুমের ডেকোরেশন করলাম। মেয়েদের পড়া লেখার যেন সমস্যা না হয় এর একটি জেনারেটরেরব্যবস্থা করলাম, সাথে লিফটের ব্যবস্থা করলাম।
অভিভাবক গন সব সময় চিন্তায় থাকেন আমার মেয়ে কি করছে কোথায় আছে এর জন্য আমরা ব্যবস্থা করেছি সিকিউরিটি লক গেটের, যেখানে ফিঙ্গার ব্যবহার না করে কোন মেয়ে বাহিরে ও ভিতরে যেতে পারবে না। আর যখনই কোন মেয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করবে সঙ্গে সঙ্গে তার অভিভাবকের মোবাইলে এস এম এস পাবেন যেখানে লেখা থাকবে আপনার মেয়ে এখন বাহিরে গেল অথবা ভিতরে আসলো। আপনার মেয়ের খরচের টাকা পাঠিয়ে দিতে আপনার কোন হয়রানির শিকার হতে হবে না, আপনি ঘরে বসে অনলাইনে আমাদের বিল পেমেন্ট দিতে পারবেন
খাওয়ার বিষয়ে বলবো আপনারা খরচ দিবেন আর আমার আছে অত্যন্ত দক্ষ ম্যানেজার, মহিলা হোস্টেল সুপার, পাকের বুয়া তারা সবাই মিলে আপনার মেয়ের নিকট তিন বেলা পৌছে দিবে সাস্থকর ও রুচি সম্মত খাবার।
সব শেষে আমি বলতে চাই যে, আমি আমার ছাত্রীনিবাসে আধুনিকতার কোন কিছু বাদ রাখি নাই, আপনাদের কে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য, মহান আল্লাহ্ যেন আপনাদের ও আমাদের হেফাজত করেন, আমিন।